তারেক মুক্ত বিএনপি চান যারা

বিডিনিউজ ডেস্ক

17

বিএনপিতে এখন নতুন মেরুকরণ ঘটছে। বিএনপির একটা বড় অংশ মনে করেন যে, বর্তমান বাস্তবতায় তারেক জিয়াকে বিএনপির দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়া উচিত।

আপদকালীন সময়ে বিএনপির কোন সিনিয়র নেতা দেশে থেকে দল পরিচালনা করবেন। এমনকি সেটি হতে পারেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এমনকি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কিন্তু তারেক জিয়ার আপাতত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে বিএনপির নেতৃত্ব থেকে সরে যাওয়া উচিত। বিএনপিকে বাঁচানোর জন্যই এইরকম মনোভাব প্রকাশ করছেন বিএনপি এবং বিএনপির বাইরে শুভাকাঙ্ক্ষী বিভিন্ন মহল। এ ধরনের ধারণার প্রবক্তা হলেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী মনে করেন যে, তারেক জিয়া যেহেতু দেশে নাই। আর বিদেশে থেকে রিমোট কন্ট্রোল দিয়ে রাজনৈতিক দল পরিচালনা করা সম্ভব না। আর এ কারণেই তিনি মনে করছেন যে তারেক জিয়া এখন উপদেষ্টা বা একজন সাধারণ সদস্য হিসেবে বিএনপিতে থাকুক, বিএনপির নির্বাহী কর্তৃত্ব যেন তার হাতে না থাকে। কারণ এতে দল পরিচালনা করা সমস্যা হচ্ছে, সকলের লন্ডনের দিকে তাকিয়ে থাকছে। তাছাড়া এর ফলে বিএনপির ভাবমূর্তিও জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিএনপি ২০১৮ নির্বাচনের সময় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছে। এই ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। শুধু জাফরুল্লাহ চৌধুরী না, ঐক্যফ্রন্টের চেয়ারম্যান ছিলেন ড. কামাল হোসেন। তিনিও তারেক জিয়াকে আপাতত রাজনীতি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকে সক্রিয় করে একটি সরকারবিরোধী নতুন মোর্চা গঠন করার চেষ্টা করছেন। আর এ লক্ষ্যে তিনি ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু ড. কামাল হোসেন মনে করেন যে তারেক জিয়াকে বিএনপির নেতৃত্বে বিএনপির পক্ষে বেশি দূর এগোনো সম্ভব না।

বিভিন্ন সূত্র বলছে যে, ড. কামাল হোসেন মনে করেন যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তারেক জিয়ার গ্রহণযোগ্যতা নেই। তার সঙ্গে জঙ্গিদের সংশ্লিষ্টতা, সন্ত্রাসীদের সংশ্লিষ্টতা এবং তার দুর্নীতি নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে পশ্চিমা দেশগুলোকে এমনকি ভারতের। কাজেই আপাতত তারেককে নিয়ে এগিয়ে গেলে বিএনপি কিছুই করতে পারবেনা বলে ড. কামাল হোসেন অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

শুধু ড. কামাল হোসেন নন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ২ জন গুরুত্বপূর্ণ নেতা একই অভিমত ব্যক্ত করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে। এদের মধ্যে রয়েছেন মাহমুদুর রহমান মান্না এবং আ স ম আব্দুর রব। তারাও মনে করেন যে, যে নেতা নিজের দেশে থেকে নেতৃত্ব দিতে পারেন না তার আপাতত নেতৃত্বে দূরে থাকা উচিত।

এই বাইরের দলগুলো ছাড়াও বিএনপির মধ্যে একাধিক নেতা এখন তারেক বিরোধী অবস্থানে অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। আর এদের মধ্যে নেতৃত্বে আছেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। বিভিন্ন সূত্র বলছে যে, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন মনে করেন যে যদি বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাবার কারণে চেয়ারপারসনের পদ থেকে দূরে সরে যেতে পারেন তাহলে দেশে না থাকার কারণে কেন তারেক জিয়া নেতৃত্বে থাকবেন।

তিনি মনে করেন যে তারেক জিয়া সরে গেলে বিএনপি নেতাকর্মীরা চাঙ্গা হবে, দল একটি সত্যিকারের যৌক্তিক আন্দোলন করবে। ড. খন্দকার মোশাররফের মতই অভিমত ব্যক্ত করেন মেজর হাফিজসহ আরও একাধিক বিএনপির নেতা। তবে শেষ পর্যন্ত এসব নেতাদের কথায় তারেক নেতৃত্ব ছাড়বেন কিনা সেটিই একটি বড় প্রশ্ন। এর আগেও তারেককে নেতৃত্বে ছাড়ার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে চাপ দেওয়া হয়েছিল কিন্তু সেই চাপে কর্ণপাত করেননি তারেক জিয়া।

বাংলা ইনসাইডার

Previous articleস্বপ্ন পূরণের স্বন্নিকটে মাহেন্দ্রক্ষণ: মহালছড়ির ২৩২ পরিবার পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর উপহার
Next articleমন্ত্রীদের সম্পর্কে ৫ তথ্য প্রধানমন্ত্রীর টেবিল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here