ওমানে ঘূর্ণিঝড় শাহিনের আঘাতে লক্ষ্মীপুরের ৩ জন নিহত

5

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে বয়ে যাওয়া মৌসুমী ঘূর্ণিঝড় শাহিনের আঘাতে তিন বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন। নিহতদের বাড়ি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের মধ্যম মকরধ্বজ গ্রামে। নিহতদের বাড়িতে গিয়ে পারিবারিক সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

গত ৩ অক্টোবর ওমানে ঝড়টি আঘাত হানে। নিহতরা হলেন, ওই গ্রামের আবদুল মজিদ চেরাঙ্গ বাড়ির নুরুল আমিনের ছেলে শামছুল ইসলাম (৫৫), আব্দুল করিম হামিদ আলী বাড়ির আব্দুস শহিদের ছেলে আমজাদ হোসেন হ্নদয়(২৮), চাঁন কাজী বাড়ির শুকুর উল্ল্যাহ ছেলে জিল্লাল হোসেন (৪৫)। এরা তিনজন পরস্পর নিকটাত্মীয়।

অন্যদিকে এ ঘটনায় বহু নিখোঁজ বাংলাদেশীর তথ্য চেয়ে ফেসবুকে ছবি পোস্ট করছেন অন্য প্রবাসীরা।

নিহত আমজাদ হোসেন হ্নদয়ের বাবা আবদুস সহিদ জানায়, তার ছেলে ওমানের মাস্কাট শহরের নিকটবর্তী উপকূলীয় সাহাম এলাকায় একটি খেজুঁর বাগানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতো। তার নিকটাত্মীয় অপর সামছুল ইসলাম ও জিল্লাল হোসেন একই এলাকায় কাজ করতো।

রোববার ঝড়ের পরে থেকে তারা নিখোঁজ ছিল। ঝড়ে আসা পানি নেমে যাওয়ার পর মঙ্গলবার সকালে শামছুল ইসলাম এবং জিল্লাল হোসেনের লাশ সনাক্ত করে প্রবাসীরা পুলিশকে জানায়। অন্যদিকে বুধবার তার ছেলে আমজাদ হোসেন হ্নদয়ের লাশ পাওয়া যায়।
মৃত শামছুল ইসলাম গত ত্রিশ বছর ওমান প্রবাসী ছিলেন।

তার তিন মেয়ে, এক ছেলে, স্ত্রী রয়েছে। মৃত জিল্লাল হোসেন গত ১৫ বছর ওমানে রয়েছেন। তার ছেলে, মেয়ে ও স্ত্রী রয়েছে। অন্যদিকে মৃত আমজাদ হোসেন হ্নদয় তিন বোন, এক ভাই ও বাবা মা রয়েছে। মৃত ব্যাক্তিরা ছিলেন পরিবারে অর্থ উপার্জনের একমাত্র ভরসা। এদের মৃত্যুর খবরে পুরো এলাকাতে শোকে ছায়া নেমে এসেছে।

সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: সালাহ উদ্দিন আহমেদ ভূইঁয়া তার ইউনিয়নের এ তিন প্রবাসী নিহত হওয়ার ঘটনা নিশ্চিত করে জানান, লাশ বাংলাদেশে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মামুনুর রশিদ বলেন, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে। প্রবাসী কল্যান মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে নিহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা করা হবে।

Previous articleআমি দেলোয়ার বাদাম বিক্রেতা হতে পারি, আমার সন্তানরা হবেনা
Next articleসাংবাদিকদের সাথে নবাগত ওসির মতবিনিময়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here