৫ সংকটে বিপর্যস্ত বিএনপি

14

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে বিপর্যস্ত দলটির নাম বিএনপি। বিএনপি এখন দলীয় কর্মসূচি কেবল স্থগিতই করেনি, দলটির অস্তিত্বের সঙ্কটে ভুগছে।

বিএনপি নেতারাই মনে করছেন যে, পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে দলটি বিলীন হয়ে যাবে। বিএনপি নেতারা মনে করছেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে ৫টি সংকটে বিএনপি বিপর্যস্ত অবস্থায় চলে গেছে এবং এই অবস্থা চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি টিকবে কিনা সেটি একটি বড় প্রশ্ন।

বিএনপির সামনে এখন যে ৫ সংকট রয়েছে এবং যে সংকটগুলোতে বিএনপি বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে তার মধ্যে, 

১. খালেদা নির্বাক: বেগম খালেদা জিয়া গত এক বছর ধরে নির্বাক আছেন। কারো সঙ্গে তিনি কোনো কথা বলছেন না, দলের ব্যাপারে কোনো পরামর্শ দিচ্ছেন না।

গত একমাস ধরে দলের কোনো কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই বলেই জানা গেছে। খালেদা জিয়ার এই নির্লিপ্ততা এবং নিস্পৃহতা বিএনপিকে একটি সংকটে ফেলেছে বলেই বিএনপি নেতাকর্মীরা মনে করে। 

২. করোনা আক্রান্ত নেতাকর্মী: বিএনপিতে শীর্ষ নেতাদের দুই-তৃতীয়াংশই এখন করোনাতে আক্রান্ত হয়েছেন। দলের কার্যক্রম পরিচালনা করার মতো নেতাকর্মী নেই। আর এই পরিস্থিতি যদি চলতে থাকে তাহলে বিএনপি এমনিতেই অচল হয়ে পড়বে বলে দলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন। 

৩. কমিটি বিপর্যয়: সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি কমিটি বিপর্যয় নতুন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেখানেই কমিটি করা হচ্ছে সেখানেই বিদ্রোহ হচ্ছে এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠছে।

যার ফলে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে এক পা এগুলে দুই পা পিছিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। যে কয়টি কমিটি হয়েছে প্রত্যেকটি বিরুদ্ধেই বিদ্রোহ হয়েছে। অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলো কমিটির কারণে এখন কার্যত নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। এই কমিটি বিপর্যয় বিএনপি`র জন্য একটি নতুন সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে।

৪. গন্তব্য নিয়ে অনিশ্চয়তা: বিএনপি`র গন্তব্য কোথায়, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি কি চায়, তার রাজনৈতিক লক্ষ্য কি ? এ নিয়ে বিএনপি`র মধ্যেই এখন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিএনপি নেতারা জানেন না বিএনপি কি করতে চায়।

বিএনপি যদি গণতান্ত্রিক রাজনীতি করতে চায়, তাহলে আগামী নির্বাচন ২০২৩ এর শেষে বা ২০২৪ এর শুরুতে অনুষ্ঠিত হবে, সেটি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আর যদি বিএনপি তার আগেই সরকার পতনের আন্দোলন করতে চায়, সেই জন্য বিএনপিকে সংঘটিত হতে হবে এবং আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।

কিন্তু বিএনপি আন্দোলন করবে না আগামী নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করবে সে নিয়ে বিএনপি`র মধ্যেই কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নেই। তাছাড়া বিএনপির মধ্যে একটি অংশ আবার ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সরকার পতনের চিন্তাভাবনাও করে।

কিন্তু এই ধরনের ষড়যন্ত্র এবং সরকার পতনের প্রচেষ্টা করতে গিয়ে বিএনপি নিজেরাই নানা রকম ঝামেলায় জড়াচ্ছে। ফলে গন্তব্য নিয়ে অনিশ্চয়তা বিএনপিকে আরেকটি সংকটে ফেলেছে।

৫. জোট নিয়ে যট: বিএনপিতে সবচেয়ে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে এখন জোট নিয়ে। বিএনপির ২০ দলীয় জোটে আছে না জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আছে এ নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সমস্যা এবং বিস্ময় রয়েছে।

বিএনপির একটি অংশ জামায়াত এবং ২০ দলীয় জোটকে নিয়ে থাকতে চায়। কিন্তু এই নিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আপত্তি রয়েছে। এর মধ্যে ২০ দলের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে তা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিলো বিএনপির মধ্যে। বিএনপির নেতারা বলছেন যে, আন্তর্জাতিক বাস্তবতা এখন জামায়াতের সঙ্গে প্রকাশ্য ঐক্য সম্ভব নয়।

আর এ কারণেই ২০ দলীয় জোট নেতারা বিলুপ্ত করতে চাইছে। অন্যদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বিএনপির মধ্যে তীব্র নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে।

আবার বিএনপি মনে করছে এই সময় যদি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হয় তাহলে ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। কিন্তু বৃহত্তর ঐক্য বিএনপি কার সাথে করবে, কীভাবে করবে এ নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট রুপ পরিকল্পনা নেই।

ফলে বিএনপিকে একলা চলতে হচ্ছে অথবা অন্য রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে।

যখন যে দল সরকারবিরোধী আন্দোলন তীব্র করছে সেই দলের পরগাছা হিসেবে বিএনপি কিছু কিছু কর্মসূচি পালন করছে। কিন্তু দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে এটি নেতাকর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

আর এই পরিস্থিতিতে বিপর্যস্ত বিএনপি শেষ পর্যন্ত কোন পথে যাবে সেটি হলো দেখার বিষয়।

বাংলা ইনসাইডার

Previous articleআওয়ামী লীগে এতো হেফাজত?
Next articleপরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শেখ হাসিনা মিশন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here