স্বপ্ন পূরণের স্বন্নিকটে মাহেন্দ্রক্ষণ: মহালছড়ির ২৩২ পরিবার পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর উপহার

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

17

যে মানুষগুলো কয়েক মাস আগেও বাড়ির টিনের ফুঁটো দিয়ে বৃষ্টি আর রোদের লুকোচুরি খেলা দেখেছেন আর ভেবেছেন ইস্ আমার যদি একটি পাকা বাড়ি থাকতো!

তাহলে দৈনন্দিন জীবনের কাজ শেষ করে রাত্রি বেলার প্রহরটা হযতো একটু শান্তিতে কাঁটানো যেতো।কিন্তু দারিদ্রতার কথা ভেবে তাদের দু-চোখের কোণে জলও চলে আসতো।

তারা জানতো যেখানে মুখে দু-মুঠো অন্ন জোগানো দায় সেখানে একটি পাকা বাড়ি সারা জীবনের স্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই নয়।

তখনি তাদের কাছে হঠাৎ করে খবর আসে গৃহহীন হতদরিদ্রদের সারাজীবনের স্বপ্নের বাড়ি নির্মাণ করে দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কণ্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে আবেদন করে চলমান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘরের সেই স্বপ্নপূরণ হলো হতদরিদ্র এই পরিবারগুলোর।

প্রধানমন্ত্রীর নির্মাণ করা ঘর পেয়ে খুঁশি গৃহহীন থুইঞো মারমা। কয়েক মাস আগেও সন্তানদের নিয়ে যার অসহায় জীবন যাপন কাঁটছিল। প্রকৌর রৌদ আর বৃষ্টির পানি ছিল তাদের নিত্য দিনের সঙ্গী।  

একই চিত্র প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া “গৃহায়ণ প্রকল্পের আওতায় আসা অন্যান্য পরিবারগুলোরও। বলছিলাম খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটির সীমান্ত ঘেঁষা মহালছড়ি উপজেলার কথা।

বাড়ী পেয়ে তাদের পূর্বের কষ্টের জীবনের কথা জানান, মহালছড়ি সদর ইউপির আওতায় ঘরপ্রাপ্ত উপজেলার বাসিন্দা হনাংপ্র মারমা, নাংরেবাই মারমা, থুইঞো মারমাসহ ঘর পাওয়া পরিবারগুলো। 

মহালছড়ি উপজেলায় ২০২০-২১ অর্থ বছরে দ্বিতীয় পর্যায়ে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহারে ২৩২টি ঘর নির্মাণসহ চলমান কাজ প্রায় শেষের পথে।

দুই কক্ষ ও রান্না ঘর বিশিষ্ট এসব ঘরে এরই মধ্যে রং থেকে শুরু করে শেষ হয়েছে দরজা-জানালার কাজও। আকারে মাঝারি হলেও দৃষ্টিনন্দন এসব ঘর মাথা গোজার ঠাঁই করে দিয়েছে হতদরিদ্রদের। 

মহালছড়ি সদর ইউপি চেয়ারম্যান রতন কুমার শীল বলেন, সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে ৭৫টি প্রধানমন্ত্রীর প্রদত্ত ঘর বরাদ্ধ পেয়েছি।

সুষ্ঠভাবে কাজের গুণগতমান বজায় রেখে যথাযথ ভাবে সকল ঘরের কাজ এরই মধ্যে সর্ম্পূণ হয়েছে। আগামী ২০ জুন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া এই বাড়িগুলোর চাবি বুঝিয়ে দেওয়া হবে বরাদ্ধকৃত গৃহহীন পরিবারগুলোর মাঝে।

এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি গৃহহীন মানুষের জন্য বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া,প্রধানমন্ত্রীর এ কর্মসূচি পৃথিবীতে বিরল মডেল।

অসহায় মানুষের জন্য বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া এ কর্মসূচির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আবেগ মিশে আছে।তাই আমরা সবোর্চ্চ চেষ্টা করেছি প্রধানমন্ত্রীর সম্মান রক্ষার্থে বাড়িগুলোর গুনগত মান বজায় রাখতে।  

চৌংড়াছড়ি হেডম্যান ক্যাচিংমিং চৌধুরী গৃহহীনদের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাড়ি নির্মাণ প্রকল্পে প্রশাসনের যাছাই-বাছাই প্রক্রিয়ার কথা তুলে ধরে অসহায় মানুষের স্বপ্ন পূরণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।  

মহালছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার জোবাইদা আক্তার জানান, মহালছড়ির ৪ ইউনিয়নে ২৩২টি প্রধানমন্ত্রীর প্রদত্ত ঘর বরাদ্ধ হয়েছে। আগামী ২০ জুন প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে গৃহহীনদের মাঝে বাড়ির চাবি বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

Previous articleবকশীগঞ্জে এসডিজি নীতিমালা বাস্তবায়ন ও প্রত্যাশা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত
Next articleতারেক মুক্ত বিএনপি চান যারা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here