বৃষ্টির পানিতে কৃষকের স্বপ্ন ধূসর

6

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জের ৫টি উপজেলায় হঠাৎ বৃষ্টিতে শীতকালীন সবজি, আমন ধান, স্ট্রবেরী ও রবি শষ্যের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে ইরি, বোরোর বীজতলা ও ফসলে পচন ধরে বেশিরভাগ নষ্ট হয়ে গেছে।

জেলার ৫টি উপজেলায় প্রায় ১৫০০ হেক্টর জমির আমন ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। এছাড়া চাষকৃত রবি শস্য ও শীতকালীন সবজির প্রায় অর্ধেকের বেশি ক্ষতি হয়েছে। ধানী জমি সহ সব ফসলের মাঠে এখন পানি আর পানি।

গত শনিবার থেকে মঙ্গলবার ৪ দিন পর্যন্ত এবং বৃহস্পতিবার দিন রাত ব্যাপি বৃষ্টি হওয়ায় ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে । আনুমানিক ৫০ কোটি টাকার ক্ষতিতে পড়েছে গোপালগঞ্জের কৃষকেরা। কৃষকেরা বর্তমানে চোখে মুখে দেখছেন অন্ধকার ।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের দিলিপ বালা বলেন, এবার আমন ধানের ভালো ফলন হয়েছিলো। কিন্তু কৃষকরা সব ধান কেটে ঘরে তুলতে পারেনি। জমির ধান এখনো পানির নিচে। সখ করে অনেক টাকা খরচ করে স্ট্রবেরি চাষ করেছিলাম তাও পানির নিচে।

মুকসুদপুর উপজেলার উজানী ইউনিয়নের খালকুলা গ্রামের পরিমল মন্ডল জানান, টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে বীজতলা, রবিশষ্য ও শীতকালীন সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে । নিঃস্ব হওয়ার পথে কৃষকরা।

কোটালীপাড়ার কৃষক ওসমান শেখ বলেন, বৃষ্টিতে বোরোর বীজ তলা সম্পূর্ন নষ্ট হয়েছে । কাশিয়ানির উপজেলার জলিরপাড়ের কৃষক পঙ্কজ তালুকদার বলেন, বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের সরকারি প্রনোদনার প্রয়োজন।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কৃষি স¤প্রসারণ কর্মকর্তা কাজী রাকিব জোবায়ের জানান, চলতি মৌসুমে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষাবাদ হয়েছিলো। ধানের ফলনও ভালো হয়েছিলো কিন্তু কৃষক সম্পূর্ন ধান ঘরে উঠাতে পারেনি।

অসময়ের বৃষ্টিতে মাঠ জলাবদ্ধ থাকায় বর্তমানে প্রায় ৫’শ হেক্টর আমন ধান পানির নিচে রয়েছে। ২০৫ হেক্টর জমির বোরো বীজতলা নষ্ট হয়েছে। এতে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এছাড়া উৎপাদিত খেসারী, মসুর, মটর, সবজি, গম, পেঁয়াজ, রসুন, সরিষা, গোল আলু, মিষ্টি আলু, স‚র্যম‚খী, মাসকলাই, ভুট্রা ও ধনিয়া ৬০% নষ্ট হয়েছে। এতে সব মিলিয়ে উপজেলার কৃষকদের আনুমানিক প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ড.অরবিন্দু কুমার রায় বলেন, অনাকাক্ষিত বৃষ্টির পানিতে নিমজ্জিত প্রায় ৫০ শতাংশ রবিশষ্য ও শীতকালীন সবজির ক্ষতি হয়েছে।

এছাড়া সম্পূর্ন আমন ধান কেটে ঘরে নিতে পারেনি কৃষক। অনেক জমির ধান এবং বোরোর বিজতলা পানিতে তািলয়ে গেছে। কৃষকেরা পানি সরাতে কাজ করছে।

হটাৎ বৃষ্টিতে যে পরিমান ক্ষতি হয়েছে সেটা পুষিয়ে নিতে কৃষকদের জন্য কঠিন হবে। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষি অফিস থেকে অন্য ফসল আবাদ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানানো হয়েছে। সরকার প্রণোদনা দিলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা উপকৃত হবে। সে লক্ষে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

Previous articleকোমলমতি শিক্ষার্থীরা যাতে অপরাধে না জড়ায় সে ব্যাপারে অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে : রাষ্ট্রপতি
Next articleজাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন উদ্বোধন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here