বিজিএমইএ’র ১০০ কোটি টাকার পোর্টাল তৈরিতে সরকার কেন অর্থায়ন করবে?

8

আমাজনের মতো প্লাটফর্ম তৈরির জন্য বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানি খাতের প্রতিনিধিত্বকারী বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সরকারের কাছে ১০০ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ চাওয়ার বিষয়টি লজ্জাজনক হলেও, তারা এমনভাবে চাইছেন যেন এটিই স্বাভাবিক।

একবার চিন্তা করে দেখুন তো, বিশ্বজুড়ে অনলাইনে পণ্য বিক্রির জন্য আমাজন তৈরি করতে জেফ বেজোস মার্কিন সরকারের বাজেট থেকে ১০ কোটি ডলার বরাদ্দ চাইছে। অথবা চীনা সরকারের বাজেট থেকে অর্থ বরাদ্দ নিয়ে জ্যাক মা আলিবাবা তৈরি করছেন। 

অযৌক্তিক, হাস্যকর শোনাচ্ছে না? অযৌক্তিকই বটে। তারা উদ্যোক্তা। উদ্ভাবনই তাদের কাজ, ঝুঁকি নিয়েই কাজ করেন তারা। হয় সফল হন বা ব্যর্থও হতে পারেন।

নিজেদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জন্য সরকারি অর্থ বরাদ্দ চান না তারা। ব্যবসা সফল হলে সরকারকে কর দেন এবং অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করেন তারা। 

যদি ব্যবসায়ীদের কর্মপরিকল্পনা প্রচলিত চিন্তার বাইরে কিছু হয়, যা প্রচলিত আইনি কাঠামোর মধ্যে পরিচালনা সম্ভব নয়, সেক্ষেত্রে সরকারের সহায়ক নীতি নির্ধারণ সংক্রান্ত সহায়তা চাইতে পারেন। 

তবে আমাজনের মতো প্লাটফর্ম তৈরির জন্য বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানি খাতের প্রতিনিধিত্বকারী বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সরকারের কাছে ১০০ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ চাওয়ার বিষয়টি লজ্জাজনক হলেও, তারা এমনভাবে চাইছেন যেন এটিই স্বাভাবিক। 

বিজিএমইএ প্রকৃতপক্ষেই কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে। প্রণোদনা প্যাকেজসহ সহায়ক নীতি নির্ধারণ সংক্রান্ত সরকারি সহায়তাও প্রয়োজন সংগঠনটির। কখন মহামারির অবসান হবে আর কখন তৈরি পোশাক খাত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে তা এখনো অজানা।

অনেক কারখানা মালিকই এ অবস্থায় অকূল পাথারে পড়েছেন, অনেকে শুধুই প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে পারছেন। এ খাতের কার্যক্রম চালু রাখতে ও পুনরায় উত্তরণে বিজিএমইএ অবশ্যই যা কিছু সম্ভব তা-ই করবে। 

কিন্তু এই চেষ্টার অংশ হিসেবে সংগঠনটি সরকারের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা ও কর কমানোর আবেদন করতে পারে। তারা এখন পোর্টাল তৈরির জন্য বাজেট বরাদ্দ চাইছেন। এমনকি পোর্টাল তৈরির জন্য ১০০ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দের হিসাবও করে ফেলেছেন তারা। কারা, কিসের ভিত্তিতে এই হিসাব করেছে? 

সাধারণত কোনো ব্যবসায়িক সংগঠনের ক্ষেত্রে সদস্যরাই এধরনের অনলাইন পোর্টাল তৈরির দায়িত্ব পালন করতে পারেন। বিজিএমইএ পোর্টাল তৈরির চেষ্টা শুরু করতে পারে, অর্থাভাবে পড়লে প্রয়োজন অনুসারে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারে। অবশ্যই এই পোর্টালের মাধ্যমে আয়ের উৎস সৃষ্টি হবে, হয়তো গ্রাহক ও বিজিএমইএ’র সদস্য উভয় পক্ষেরই খরচও কমে আসবে। 

আমাদের দেশেই অনেক স্বপ্নদর্শী তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক আছেন যারা সব কিছুতে অর্থ সাহায্য চান না। তারা সমস্যা সমাধানের নিত্যনতুন পথ উদ্ভাবন করেন। বিজেএমইএ তাদের এই তথাকথিত ১০০ কোটি টাকার অনলাইন প্লাটফর্ম তৈরির কাজে এসব উদ্যক্তাদের দ্বারস্থ হতে পারেন। 

অথবা, আমাদের অজান্তেই হয়তো বিজিএমইএ’র সদস্যরা চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করছেন! হয়তো তারা এতোই গরিব যে আমরা সমালোচনা করে অসংবেদনশীলতার পরিচয় দিচ্ছি।

হয়তো তারা এখন এতোটাই অর্থকষ্টে ভুগছেন যে সংগঠনের সদস্যদের মোবাইল ফোন বিলের জন্যও বাজেট থেকে অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক কল ছাড়া তো আবার ভালো চুক্তি পাওয়া যাবে না।

সদস্যদের গাড়ি বা বাড়ি ভাড়ার জন্যও ভাতা চাইতে পারেন তারা। কারখানা স্থাপনের জন্য সরকারের কাছে বিনামূল্যে প্লট বরাদ্দও চাইতে পারেন তারা।   

লেখক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের নির্বাহী সম্পাদক

Previous articleইলন মাস্ক ও জেফ বেজোসের প্রচেষ্টায় বিশ্বের আনাচে-কানাচে পৌঁছে যাবে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সংযোগ
Next articleকরণ জোহরের হাত ধরে বলিউডে পা রাখছেন আরেক ‘স্টার কিড’ সানায়া কাপুর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here