ঈদের পর সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রস্তুতি

বিডিনিউজ ডেস্ক

40

ঈদের পর সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। শুধুমাত্র বিএনপি নয় বিভিন্ন গোত্র থেকেই সরকারবিরোধী আন্দোলনের পৃথক পৃথক প্রস্তুতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ধারণা করা হচ্ছে যে, ঈদের পর এই লকডাউন শিথিল হলেই ধাপে ধাপে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারে বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং দল। ঈদের পর সবচেয়ে বড় যে রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে সেটি হলো হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে।

হেফাজতে ইসলাম ইতিমধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন এবং তাদের আটক নেতাকর্মীদের মুক্ত করার দাবি করেছেন এবং একইসাথে মাদ্রাসাগুলো খুলে দেওয়ার দাবি করেছেন। এই প্রেক্ষিতে ঈদের পর হেফাজতে ইসলাম আবার নতুন করে আন্দোলনের চেষ্টা করতে পারে এমন কথা পাওয়া যাচ্ছে।

হেফাজতের যে উগ্রবাদী অংশ রয়েছে তারা মনে করছে যে, সরকারের সাথে সমঝোতার চেষ্টা অনেক হয়েছে আর সমঝোতার চেষ্টা করে লাভ নেই। বরং ঈদের পর যদি কিছু আন্দোলনের কর্মসূচি করা যায় তাহলেই সরকারকে চাপে ফেলা যাবে এবং সরকার সেক্ষেত্রে দাবিদাওয়াগুলোর ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখাবে। 

ঈদের পর বিএনপির আন্দোলন করার হুমকি দিচ্ছে। ইতিমধ্যে বিএনপি যে সমস্ত বিষয় নিয়ে আন্দোলন করবে সে সমস্ত বিষয়গুলো নিয়ে নিজেদের মধ্যে এবং অন্যান্য শরিক দলগুলোর সাথে কথাবার্তা বলছে। বিএনপি মূলত ৬টি ইস্যু নিয়ে আন্দোলন করতে চায় বলে বিএনপি`র একাধিক নেতারা মনে করছেন। এর মধ্যে রয়েছে, 

১. করোনার টিকা এবং স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম বিশৃঙ্খলা 
২. গরীব মানুষের জন্য প্রণোদনা এবং তাদেরকে সহায়তা দেওয়া 
৩. সরকারের দুর্নীতি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যর্থতা 
৪. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া 
৫. বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং 
৬. দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিসহ নাগরিক জীবনের সমস্যা 

এই ৬টি বিষয় নিয়ে তারা বিভিন্ন রকম কর্মসূচি দেয়ার কথা ভাবছে। বিএনপি ইতিমধ্যে আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলছে।

তবে এই ব্যাপারে বিএনপি এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক সাড়া পায়নি। বিএনপি`র পক্ষ থেকে কেউ কেউ বলছেন যে, ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক কর্মসূচি করার জন্য যে ধরনের প্রস্তুতি দরকার সে ধরনের প্রস্তুতি তাদের নেই। তাছাড়া বিএনপিকে নিয়ে অনেক রাজনৈতিক দলের নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে।

বিশেষ করে বিএনপি`র বর্তমান নেতা তারেক জিয়ার সঙ্গে রাজনীতি করতে অনেক দলই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে না। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপি`র সম্পর্ক স্পষ্ট করারও দাবি করেছেন কেউ কেউ। এসব বিষয় নিয়ে শেষ পর্যন্ত বিএনপি বৃহত্তর জোট করতে পারবে না বলেই মনে হচ্ছে।

তবে বিএনপি`র ২০ দল এবং ঐক্যফ্রন্টের বাইরে একটি নতুন জোট করতে যাচ্ছে এটি মোটামুটি নিশ্চিত এবং সেই জোটে মাহমুদুর রহমান মান্না নাগরিক ঐক্য,  আ স ম আব্দুর রবের জেএসডি, কর্ণেল অলি আহমেদের এলডিপি, সৈয়দ ইব্রাহিমের কল্যাণ পার্টিসহ আরও কিছু রাজনৈতিক দল থাকবে।

জামায়াতকে বাদ দিয়ে এই রাজনৈতিক মেরুকরণ ধাপে ধাপে বৃহত্তর রাজনৈতিক মঞ্চ তৈরি করবে বলে বিএনপি নেতারা মনে করছেন। বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্টও সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।

বিশেষ করে গরীব মানুষের সীমাহীন দুর্গতি, তাদের জন্য তাদের অর্থসহায়তা, করোনা মোকাবেলায় ক্ষেত্রে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনাসহ বেশ কিছু ইস্যু নিয়ে বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট ঈদের পর থেকে কর্মসূচি দেবে বলে জানা গেছে।

তারা মনে করছে যে জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এরকম পরিস্থিতিতে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। তবে তারা হঠাৎ করেই বড় ধরনের কর্মসূচিতে যাবে না। তারা ধাপে ধাপে আন্দোলন কর্মসূচির কথাই ভাবছে।

বাংলা ইনসাইডার

Previous articleমন্ত্রিসভায় দপ্তর বদলের গুঞ্জন
Next articleরাঙামাটিতে ঈদুল আযহার জামাত অনুষ্ঠিত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here