আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: ১৯৯৮ সালের ২৩ শে আগস্ট আমতলী পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৫ সালে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হয়। প্রায় ৭.৭৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভায় ৩৩ হাজারের অধিক মানুষের বসবাস। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৬ টন বর্জ্য তৈরি হয়। অথচ পৌরসভা প্রতিষ্ঠার ২৬ বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত পৌরসভা কর্তৃপক্ষ শহরের ময়লা—আবর্জনা ফেলার জন্য নির্মাণ করতে পারেনি বর্জ্য শোধনাগার।
পৌরসভা গঠিত হওয়ার পর থেকে এপর্যন্ত বর্জ্য অপশারনে নিজস্ব কোনো স্থান না থাকায় পায়রা (বুড়িশ্বর) নদী একমাত্র ভরসা। এতে যেমন পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। অন্যদিকে বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে ইলিশ উৎপাদনে। পাশাপাশি ময়লা আবর্জনার সাথে থাকা পলিথিনসহ বিভিন্ন প্লাস্টিক বর্জ্য ভেসে যাচ্ছে নদীতে।
নদীর পরের বাসিন্দারা বলছেন, ময়লাযুক্ত পানি দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করছে হাজার হাজার মানুষ। এতে চর্ম, ডায়রিয়াসহ নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা। ময়লা আবর্জনা দুর্গন্ধে বিষন্ন হয়ে উঠেছে জীবনযাপন। তাই পরিবেশকে রক্ষা করার জন্য বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণ করার দাবী পৌরসভার সচেতন নাগরিকদের।
২০১৫ সালে আওয়ামী সরকারের আমলে এটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে ঘোষিত হলেও বর্জ্য অপসারণের নির্ধারিত কোনো জায়গার ব্যবস্থাপনা করতে পারেনি পৌর কর্তৃপক্ষ। প্রথম শ্রেণির একটি পৌরসভা থেকে ময়লা ফেলানোর একটা নির্ধারিত জায়গা না থাকায় সাবেক মেয়রকেই দায়ি করছেন পৌর বাসিন্দারা।
পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, পায়রা নদীর ব্লোক পাড়ের এ স্থানে দর্শনার্থীর আসা যাওয়া। ময়লা আবর্জনার স্তূপ রাখা থাকে এখানে-নির্দিষ্ট স্থানে রাখলে পরিবেশ ও নদীর ক্ষতি থেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
আমতলী উপজেলা নাগরিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভেকেট শাহাবুদ্দিন পাননা বলেন, আমতলী পৌরসভা প্রথম শ্রেণীর হলেও নেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোন ব্যবস্থা। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার জানালেও কোন সমাধান হয়নি। তাদের দাবি আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট নির্মাণের মাধ্যমে পৌরসভার ময়লা আবর্জনা রিসাইক্লিং করে সার উৎপাদন ও পরিবেশ সম্মত স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন নির্মান। নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত নাগরিকদের এ দাবী পূরণে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা ডা. তেংমং বলেন, বর্জ্য-আবর্জনাযুক্ত পানি ব্যবহারে মানুষের রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এছাড়া উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য থেকেও একই রকম ঝুঁকি থাকে।
আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ঈসা জানান, বর্জ্য শোধনাগার স্থাপনের মাধ্যমে নাগরিক সেবার পাশাপাশি পৌর কর্তৃপক্ষ তাদের ময়লা আবর্জনাকে সম্পদে পরিণত করতে পারে। তাদের সংগৃহীত বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস ও জৈব সার উৎপাদন করা সম্ভব।
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোঃ মজিবুল হায়দার জানান, বর্জ্য শোধনাগার স্থাপনের জন্য জমি বরাদ্দ নেয়ার চেষ্টা চলছে।
এ প্রসঙ্গে আমতলী পৌর প্রশাসক (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা) মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারি জায়গা খোঁজ করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় সুবিধা মতো স্থান থেকে বেসরকারি জায়গা অধিগ্রহণ করতে পারছে না তারা