ফেসবুক ভাঙনের শিকার হলে জাকারবার্গের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সাম্রাজ্য ধ্বংস হয়ে যাবে

7

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য কমিশন (এফটিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে ফেসবুকের বিরুদ্ধে একটি অনাস্থা মামলা দায়ের করেছে। ব্যবসায় নিজেদের একচেটিয়া প্রভাব কাজে লাগিয়ে অন্য প্রতিযোগীতা সীমিত করার অভিযোগ এনে মামলাটি দায়ের করা হয়।

অভিযোগটি প্রমাণিত হলে, ফেসবুক ইঙ্ককে ভেঙ্গে ফেলার পক্ষে রায় দিতে পারেন আদালত বা এমন রায় দেওয়া হবে যা এই প্রক্রিয়াকে গতিশীল করবে। 

ইতোপূর্বে ২০১২ সালে ফটো শেয়ারিং অ্যাপ ইনস্টাগ্রামকে ৭১৫ মিলিয়ন ডলারে কিনে নেয় ফেসবুক ইঙ্ক। এফটিসি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের এক আইনি জোট কোম্পানিটির এই অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করেই মামলা সাজিয়েছে।

পাশাপাশি, ২০১৩ সালে ২২ বিলিয়ন ডলারে হোয়াটসঅ্যাপ কিনে নেওয়াকেও তারা প্রতিযোগিতা কমানোর অংশ হিসেবে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করে।  
 
আলোচিত চুক্তিগুলো যখন সম্পাদিত হয়, তখন নিয়ামক সংস্থাগুলো তাদের ব্যাপারে মাথা ঘামাননি, বলেই জানিয়েছে কমিশনটি। গত বুধবার অভিযোগপত্রটি জমা দেওয়া হয়।

সেখানে বলা হয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থার শৈথিল্য কাজে লাগিয়ে ব্যবসায় আসা প্রতিযোগিতার হুমকি হ্রাস করতেই ফেসবুকের এসব অধিগ্রহণ। 

এফটিসি এখন চাইছে ফেসবুক যেন তাদের আলোচিত দুই কোম্পানির মালিকানা ত্যাগ করে। আরে সেটা বাস্তবতায় রূপ নিলে অস্তিত্বের ঝুঁকিতে পড়বে মার্ক জাকারবার্গের তৈরি বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য।   

এমনটা হওয়ার প্রধান কারণ, ইতোমধ্যেই ফেসবুকের অধিকাংশ আয় প্রবৃদ্ধির যোগান দিচ্ছে ইনস্টাগ্রাম। আর অনলাইন বাণিজ্য প্রতিষ্ঠায় ফেসবুকের বাজির ঘোড়া হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ।

তাই প্লাটফর্ম দুটি হারানো মাত্র কোম্পানিটির দীর্ঘমেয়াদী বাজার মূল্যায়নও হ্রাস পাবে।

বুধবারে হাতেনাতে তার প্রমাণও মেলে। এদিন পুঁজিবাজারে ৪ শতাংশের বড় দরপতন হয় ফেসবুক শেয়ারে। অথচ চলতি বছর কোম্পানিটির বাজার মূল্যায়ন ৩৫ শতাংশের উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিল।

কার্যদিবস শেষ হওয়ার সময় অবশ্য দরপতন ২ শতাংশে এসে ঠেকে। তারপরও, এটি আসন্ন বিপদের সংকেতই দিয়েছে।  

এব্যাপারে ওয়েডবুশ সিক্যিউরিটিজের বিশ্লেষক ড্যান ইভস বলেন, ‘একীভূত কোম্পানির ভাঙ্গন স্বভাবতই বিনিয়োগকারীদের ভীত করে। কারণ, এর মাধ্যমে ব্যবসায়িক মডেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

তিনি ইনস্টাগ্রাম কেনাকে গত ১৫ বছরের মধ্যে হওয়া সবচেয়ে ভালো বাণিজ্যিক অধিগ্রহণ বলে উল্লেখ করেন। 

তারপরও, ইভস মনে করেন, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের মাধ্যমে প্রতিযোগী আইনে সংশোধন না আনা হলে ফেসবুক ভাঙ্গার সম্ভাবনা খুবই কম। আর কংগ্রেস এমন সংশোধনী আনবে না বলেও তিনি ধারনা করছেন। 

‘অবশ্যই নিয়ামক সংস্থার মামলা অনেক বড় সংবাদ। কিন্তু, তাতে অচিরেই ফেসবুকের জন্য বাস্তবতা খুব একটা বদলাবে না,’ তিনি যোগ করেন। 

সামাজিক গণমাধ্যমের ব্যবসায় সম্ভাবনাময় প্রতিদ্বন্দ্বী প্লাটফর্ম কেনার মাধ্যমে ফেসবুকের প্রধান সাইটের প্রতি ঝুঁকি কমানো হয়। কারণ, আগে থেকেই ফেসবুকের আকর্ষণ এক সময় হারিয়ে যাবে, এমন আশঙ্কা করা হয়েছিল।

অধিগ্রহণের পর ফেসবুক ইঙ্ক হয়ে ওঠে মানুষ কোন অ্যাপ ব্যবহার করবে সেই সিদ্ধান্তের নিয়ন্তা। ব্যবহারকারীরা হারান ইচ্ছের স্বাধীনতা। 

এই অবস্থায় একীভূত অবস্থা ভাঙ্গলে ফেসবুকের ভবিষ্যৎ নিয়ে জাকারবার্গ যে বাজি ধরেছেন সেটাও বিফল হয়ে পড়বে। ফেসবুক শুধু অধিগ্রহণই করেনি বরং হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামের উন্নতিতে বিপুল বিনিয়োগও করেছে। ফেসবুকের দাবি, এভাবে পুঁজি লগ্নীর কারণেই আজকের অবস্থানে এসেছে অ্যাপ দুটি।

”আমাদের ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপ অধিগ্রহণ আরও উন্নত পরিষেবাকে যুক্ত করেছে এবং তাদের আরও অনেক লোকের কাছে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে,” বুধবার কর্মীদের উদ্দেশ্যে লেখা এক আনুষ্ঠানিক নোটে একথা জানান জাকারবার্গ।

সেখানে তিনি আরো জানান, ‘আমরা কঠিন প্রতিযোগিতা করে আজকের অবস্থানে এসেছি। আমার বিশ্বাস আমাদের প্রচেষ্টা সৎ ছিল। আর আমি তা নিয়ে গর্বও অনুভব করি।’

তবে বাস্তবতা হচ্ছে; একবার যদি একীভুতকরণের চাপ গুরুতর আইনি আদেশের আকার নেয়, তখন আজকের ব্যবসায়িক আধিপত্যের সিংহভাগই হারাতে পারে ফেসবুক।

  • সূত্র: ব্লুমবার্গ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here