ফিরে দেখা ২০১২: মধ্যরাতে রাবি’র হলে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ, আহত ১: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

10

হলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সমর্থক কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

রোববার রাত ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে এ ঘটনা ঘটে।

এসময় এক ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করা হয়।

আহত ওই ছাত্রলীগ কর্মীর নাম খালিদ হাসান নয়ন। তিনি রাবি’র ব্যবস্থাপনা বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, নিজেদের মধ্যে আন্তঃকোন্দল ও হলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ওই হল শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক সেলিম ও ছাত্রলীগ কর্মী নয়নের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে  শত্রুতা চলছিল। এর জের ধরে রোববার রাতে নয়ন ও সেলিমের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।

এসময় সেলিমের সমর্থক কর্মীরা নয়নকে হাতুড়ি, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। ফলে গভীর রাতে বঙ্গবন্ধু হলের ভিতরে উভয় গ্রুপের কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় হলে ছাত্রলীগ কর্মীদের মধ্যে ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়া ও  মতিহার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। রাতেই গুরুতর নয়নকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ।

পরে রাবি প্রক্টর ও পুলিশ রাত সাড়ে ৩টার দিকে হলে তল্লাসি চালিয়ে একটি পিস্তল উদ্ধার করেন এবং সংঘর্ষের সাঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সালাম নামে ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করেন।

বঙ্গবন্ধু হল শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক সেলিম জানান, রাত দেড়টার দিকে নয়ন আমার কক্ষে (২২৯) আসে। এসময় সে আমাকে হল থেকে বের করে দেবে বলে পকেট থেকে পিস্তল বের করে আমাকে মারতে আসে।

নয়ন অস্ত্রের কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি যখন রুমে ঘুমাচ্ছিলাম তখন আমাকে মেরে ফেলার জন্য ছাত্রলীগ কর্মী আলামীন, তাকিম, দেবের নেতৃত্বে ১৫/২০ জন লোহার রড, হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আমার ডান হাত ভেঙ্গে দিয়েছে। এখন আমি রামেক হাসপাতালের ৩১নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছি। ’

হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে বাংলানিউজকে জানান।

এ ব্যাপারে প্রক্টর চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়া জানান, গভীর রাতে বঙ্গবন্ধু  হলে ছাত্রলীগ কর্মীদের সংঘর্ষের কথা শুনে ঘটনাস্থলে যাই। পরে পুলিশের সহযোগিতায় পরিস্থির নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনার সাঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মতিহার থানার ওসি আকবর হোসেন অস্ত্র উদ্ধারের কথা স্বীকার করে  বাংলানিউকে জানান, এ সংঘর্ষের সায়েমড় জড়িত থাকার অভিযোগে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করা হয়েছে।

সূত্র: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here