পূজার শাড়ি!

7

করোনার কারণে অন্য সব প্রতিষ্ঠানের মতো বড় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের ফ্যাশন শিল্প। তার পরও উৎসব বলে কথা। এ জন্য করোনা দুর্যোগের মধ্যেও নতুন ডিজাইন ও থিমের পোশাক নিয়ে এসেছে ছোট-বড় সব ফ্যাশন হাউস। উত্সবের কথা মাথায় রেখে পোশাকের রং ও ডিজাইনে বৈচিত্র্য তুলে ধরেছেন ফ্যাশন হাউসের ডিজাইনাররা।

আনিকীনীর ডিজাইনার হুমায়রা খান বলেন, ‘করোনার কারণে এবার বছরজুড়ে সংকটে পোশাকশিল্প। পহেলা বৈশাখ ও দুই ঈদের পর দুর্গাপূজাও কাটাতে হচ্ছে পারস্পরিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধির কথা মাথায় রেখে। এই সংকটের মধ্যেও উত্সবে কিছুটা রঙিন মাত্রা দিতে পারে নতুন ডিজাইনের শাড়ি।

পূজায় এমব্রয়ডারি কাজ করা মুসলিন ফুচিনা পিংক শাড়ি, লেদারের কাজ করা লাল মসলিন শাড়ি, লাল ও বাদামি-ধূসর রঙের ব্লক প্রিন্ট শাড়ি এবং সাদা মসলিনের ওপর ফুলেল ডিজাইন করা শাড়ি পাওয়া যাবে আনিকীনী ফ্যাশন হাউসে।’

প্রতিবছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকঢোল পিটিয়ে বড় আসর করে নিজেদের ফ্যাশন আয়োজনের জানান দেয় বিশ্বরঙ। করোনার কারণে এবার ততটা আওয়াজ না থাকলেও একেবারে থেমে নেই বিশ্বরঙ। ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করতে পূজার শাড়িতে এবারও ভিন্ন মাত্রা এনেছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্বরঙের স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার বিপ্লব সাহা বলেন, ‘করোনা মহামারি থেকে বাঁচতে পুরো বিশ্বের মানুষ এখন প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে।

আমরাও এবার পূজার পোশাকের থিম হিসেবে বেছে নিয়েছি চিরচেনা প্রকৃতিকেই। গাছপালা, নদী-নালা, পশু-পাখি, পাহাড়-পবর্ত ইত্যাদির মতো মানুষও প্রকৃতির উপাদান মাত্র। এ জন্য এবার পূজার পোশাকের অলংকরণের অনুষঙ্গ হিসেবে প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদান বেছে নিয়েছি।’

সিল্ক, হাফ সিল্ক, ধুপিয়ান, অ্যান্ডিসহ বিভিন্ন কাপড়ে বিশ্বরঙের পূজার শাড়ি করা হয়েছে। গাছ, লতা-পাতা, ফুল ইত্যাদির গ্রাফিক্যাল জ্যামিতিক ফর্মের মোটিফ তুলে ধরা হয়েছে। পূজার শাড়িতে উত্সবের আমেজ আনতে ব্যবহার করা হয়েছে উজ্জ্বল রং। মাধ্যম হিসেবে ব্যবহূত হয়েছে চুনরি, টাই-ডাই, ব্লক, বাটিক, অ্যাপলিক, ক্যাটওয়াক ও স্ক্রিন প্রিন্ট।

ফ্যাশন হাউস অঞ্জন’স এবারের পূজার শাড়িতে হালকা ও আরামদায়ক কাপড় বেছে নিয়েছে। কটন, লিনেন কটন, জর্জেট, সিল্ক ও উইভিং ডিজাইনের কাপড়ের শাড়িতে মোটিফ হিসেবে মাধুবনী, ফুল, পাখি ও লতা-পাতার ব্যবহার হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার শাহিন আহমেদ বলেন, ‘উৎসবের পোশাকে রঙের খেলায় মাততে পছন্দ করেন ডিজাইনাররা।

উৎসব-পার্বণে একটু রঙিন পোশাক ক্রেতাদেরও পছন্দ। এ জন্য এবারকার পূজার শাড়িতে রঙের ব্যবহারে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করেছি। ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত পূজার প্রতিটি পর্বের আলাদা শাড়ি খুঁজে পাবেন আমাদের হাউসে।’

রঙ বাংলাদেশের স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার সৌমিক দাস বলেন, ‘করোনা মহামারিকাল আমাদের জন্য নতুন এক অভিজ্ঞতা। এখন জীবনযাপনে অনেক কিছুই পরিবর্তিত হয়েছে। এর মধ্যেই শুরু হবে শারদীয় দুর্গাপূজা।

প্রতিকূল এই সময়েও পূজার আনন্দ পোশাকের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এবার পূজার পোশাকে থিম হিসেবে বেছে নিয়েছি আল্পনা, শতরঞ্জি।’

রঙ বাংলাদেশের পূজার শাড়িতে আরামদায়ক কাপড় প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। মূল রং হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে সাদা, অফহোয়াইট, লাল, নীল, মেজেন্ডা, গোল্ডেন, তামা ও কমলা। স্ক্রিন প্রিন্ট, ব্লক প্রিন্ট, টাই-ডাই, মেশিন এমব্রয়ডারি ও হাতের কাজের মাধ্যমে শাড়িতে ভ্যালু অ্যাড করা হয়েছে।

পূজার চিরায়ত লাল-সাদার সঙ্গে বৈচিত্র্য আনতে রঙের ঝুলিতে আরো যোগ হয়েছে কমলা, হলুদ, বেগুনি, গোলাপিসহ নানা রং। এসব ছাড়াও পূজার ডিজাইনের আলাদা কিছু শাড়িও পাওয়া যাবে ফ্যাশন হাউসগুলোতে। এগুলোর কোনোটায় ত্রিশূল, দেব-দেবী, ওঁম লেখাসহ পূজার বিশেষ নকশা আঁকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here