পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শেখ হাসিনা মিশন

15

বাংলাদেশে গত এক যুগ ধরে শেখ হাসিনাই ত্রাণকর্তা। পুরো দেশের জনগণ তাকিয়ে থাকেন তার ওপর। যেকোনো সংকট দুর্যোগ-দুর্বিপাকে শেখ হাসিনাই আশা-ভরসার কেন্দ্রস্থল হিসেবে মানুষের সামনে উদ্ভাসিত হন।

আর তাই যখনই কোনো সংকট আসে তখনই দেশের মানুষ তাকিয়ে থাকেন শেখ হাসিনার দিকে। আর অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও যেকোনো সংকট সামাল দেওয়ার জন্য ম্যাজিক সলিউশন নিয়ে হাজির হন।

যেকোনো দুর্যোগ-দুর্বিপাকে যখন মানুষ দিশেহারা হয়, তখন শেখ হাসিনা এমন একটি সমাধান নিয়ে উপস্থিত হন যেটি সকলের জন্য গ্রহণযোগ্য এবং সকলকে স্বস্তির মধ্যে আনে। এবারও দুটি সংকটে দেশ বিপর্যস্ত, সংকটাপন্ন। 

প্রথম সংকট করোনার তাণ্ডব: করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সবকিছু যেন লন্ডভন্ড করে দিচ্ছে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমনের সংখ্যা। সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এরকম পরিস্থিতিতে কঠোর লকডাউন ছাড়া কোনো উপায় নেই। এটি বিশ্বের একমাত্র ফর্মুলা।

কিন্তু ৫ এপ্রিল থেকে প্রথম দফায় যে লকডাউন দেওয়া হয়েছিলো সেই লকডাউন কার্যত এক তামাশায় পরিণত হয়েছে। কেউ এই লকডাউন মানছে না। দেশে যেটি একটি লকডাউন আছে, এটি অনুভূত হচ্ছে না।

এই পরিস্থিতিতে আমলাদের কিছু কিছু বিধিব্যবস্থা করোনার সংক্রমণকে আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে চিকিৎসক বিশেষজ্ঞরা অভিযোগ করেছেন। বিশেষ করে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যাংক খোলা থাকার জন্য ওই সময় অনেক বেশি ভিড় হচ্ছে।

বাজারে সীমিতকরণ সময় থাকার জন্য ওই সময়ে বাজারে ভিড় হচ্ছে। অফিস-আদালতগুলো সীমিত আকারে চালু করার নামে পুরোপুরি চলছে ইত্যাদি বাস্তবতায় লকডাউন বলে আসলে কিছু হচ্ছে না। বরং করোনার সংক্রমণ আরো বিস্তৃত হচ্ছে। 

এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা মোকাবেলার কৌশল উদ্ভাবনের জন্য নিজে দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেছেন। চিকিৎসক বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়েছেন।

এসব মতামতের ভিত্তিতে শেখ হাসিনার মিশন শুরু হচ্ছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এবারের যে করোনা মোকাবেলায় রুপ পরিকল্পনা এবং একটি কঠিন লকডাউন সেটি প্রণয়ন করছেন শেখ হাসিনা নিজেই।

ইতিমধ্যে গরিব, দরিদ্র মানুষকে প্রণোদনা দেওয়ার জন্য একটি প্যাকেজ চূড়ান্ত হয়েছে। যেন তারা ঘর থাকলেও না খেয়ে না থাকেন। তাদের খাদ্য এবং অর্থের নিশ্চয়তা করে একটি কঠিন লকডাউন করা হচ্ছে শেখ হাসিনার মিশনে।

দ্বিতীয় সংকট ধর্মান্ধ মৌলবাদী শক্তির উত্থান: বাংলাদেশের দ্বিতীয় বড় সংকট হিসেবে এসেছে ধর্মান্ধ মৌলবাদী শক্তির উত্থান। বিশেষ করে হেফাজত একের পর এক যে তাণ্ডব চালিয়েছে গত ২৬ এবং ২৭ মার্চ তারপরও তারা বিভিন্নভাবে দেশে বিভিন্ন স্থানে যেভাবে উস্কানি দেয়ার চেষ্টা করছে এই প্রেক্ষিতে সরকারের একশন কি হবে সেটি নিয়ে জনগণের মধ্যে নানা জিজ্ঞাসা রয়েছে।

আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে মৌলবাদ এবং জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য একটি রুপ পরিকল্পনা তৈরি করছেন। মিশন শেখ হাসিনার দ্বিতীয় কাজ হবে এই হেফাজতের নামে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিকে দমন করা। সেটি দমন করার ক্ষেত্রে তিনি কী করবেন সেটাই দেখার বিষয়। 

বাংলাদেশের সঙ্কট সমাধানের একমাত্র ভরসাস্থল হলো শেখ হাসিনা এবং যখন আমলারা করোনা নিয়ন্ত্রণে একের পর এক অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রজ্ঞাপন এবং নির্দেশনা জারি করেছেন, যখন হেফাজতকে নিয়ে এক ধরনের বিভ্রান্তি, ঠিক সেইসময় আসছে মিশন শেখ হাসিনা।

যে মিশনের মূল লক্ষ্য হলো করোনা পরিস্থিতিকে সামাল দেওয়া এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে উর্ধ্বে তুলে রাখা। জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাসবাদবিরোধী প্রগতি এবং শান্তির বাংলাদেশে তৈরি করা।

আর শেখ হাসিনা যে পরিকল্পনা তৈরি করবেন সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ এই দুই সঙ্কট থেকে পরিত্রাণ পাবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।

Previous article৫ সংকটে বিপর্যস্ত বিএনপি
Next articleলক্ষ্মীপুরে ১০টি ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান পুঁড়ে কোটি টাকার ক্ষতি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here