নগরবাসীকে সুরক্ষা দিতে মাঠে নেমেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন

69

আসন্ন শীতের আগেই কিউলেক্স মশা থেকে নগরবাসীকে সুরক্ষা দিতে মাঠে নেমেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫৪ ওয়ার্ডে মশার বংশ বিস্তার উপযোগী চিহ্নিত ১৩০০ স্পটে একযোগে অভিযান এবং মশক নিধনে কাজ করবে সংস্থাটি। এজন্য প্রতি ওয়ার্ডে ১০ জন মশক নিধনকর্মী ও ১০ পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাজ করবেন। এরই অংশ হিসেবে প্রতি ওয়ার্ডকে ৬ ভাগে ভাগ করে কাজ নিয়োজিত আছেন কর্মীরা।

অন্যদিকে নিজ নিজ মালিকানাধীন এবং সরকারি-বেসরকারি মালিকাধিন নর্দমা, ডোবা, পুকুর, খাল, জলাশয় ইত্যাদি থেকে কচুরিপানা, ময়লা-আবর্জনা নিজ দায়িত্বে অপসারণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা এ এস এম মামুন জানিয়েছেন, নর্দমা, ডোবা, পুকুর, খাল, জলাশয় ইত্যাদি থেকে কচুরিপানা, ময়লা-আবর্জনা নিজ দায়িত্বে অপসারণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দিয়েছে ডিএনসিসি। নিজ উদ্যেগে এসব পরিচ্ছন্ন করার ইতোমধ্যে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

জানা গেছে, ব্যক্তিমালিকানা বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতেও এ বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই তালিকায় রয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উত্তরা রাজউক বিভাগ, সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের রিয়েল এস্টেট ডিপার্টমেন্ট, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন, বিটিআরসি খিলক্ষেতসহ আরও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, এ বর্ষা-পরবর্তী শুষ্ক মৌসুমে কিউলেক্স মশার প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। কিউলেক্স মশা সাধারণত ময়লা-আবর্জনা, নর্দমা, অপরিচ্ছন্ন ডোবা, নালা, পুকুর, জলাশয় ইত্যাদি স্থানে বংশবিস্তার করে।

এ সকল স্থানে ময়লা-আবর্জনা, কচুরিপানা, জলজ উদ্ভিদ থাকলে বারবার কীটনাশক প্রয়োগ করেও মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। ব্যক্তি মালিকানাধীন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের খাল, ডোবা, জলাশয় ইত্যাদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা নিজ নিজ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব।

তাই নিজ নিজ মালিকানাধীন নর্দমা, ডোবা, পুকুর, খাল, জলাশয় ইত্যাদি থেকে কচুরিপানা, ময়লা-আবর্জনা নিজ দায়িত্বে অপসারণ করে নিতে হবে। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সতর্ক করে দিয়েছে ডিএনসিসি।

এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম গত ৭ অক্টোবর মিরপুরের দক্ষিণ বিশিলে গোদাখালী খাল পরিষ্কার কার্যক্রম ও খাল থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন মালামাল পরিদর্শনকালে বলেছেন, খাল, ডোবা-নালা ইত্যাদি অপরিষ্কার পাওয়া গেলে ২০ অক্টোবর থেকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মেয়র বলেন, যেভাবে এডিস মশা থেকে নগরবাসীকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য চিরুনি অভিযান পরিচালনা করেছি এবং জরিমানা করেছি, একইভাবে আসন্ন শীত মৌসুমে নগরবাসীকে কিউলেক্স মশা থেকে সুরক্ষা দিতে আগামী ২০ তারিখ থেকে আমরা ডিএনসিসি এলাকার খাল, ডোবা-নালা ইত্যাদি পরিদর্শন করব।

সেই খাল, ডোবা-নালা পরিষ্কার অবস্থায় পাওয়া না গেলে আমরা ‘ফাইন’ করব। সরকারি, বেসরকারি কিংবা ব্যক্তি মালিকানাধীন যেকোনো সংস্থাই হোক না কেন, তাকে ফাইন করা হবে। আমি সেই সংস্থা বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবো। কারণ খাল কচুরিপানাপূর্ণ বা অপরিষ্কার থাকলে সেখানে মশা বংশবিস্তার করে।

তাই আমি বিনয়ের সাথে অনুরোধ করবো, আমাদের সকল সংস্থা, সরকারি-বেসরকারি এবং ব্যক্তি সবাই এগিয়ে আসুন, সিটি কর্পোরেশনের একার পক্ষে সম্ভব নয়, সবাই মিলে এগিয়ে আসলে তাহলেই সম্ভব।

Previous articleজাতীয় দলের অলরাউন্ডার মিরাজ বাবা হলেন
Next articleটক অব দ্য শোবিজ: কে এই রেজা আমিন সুমন?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here