ডিসেম্বরে কাউন্সিল করতে চায় আওয়ামী লীগ

10

দেশের রাজনৈতিক কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো বক্তৃতা বিবৃতির মধ্যেই তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম সীমিত রেখেছে। অন্যান্য রমজানে যেমন ইফতার রাজনীতি থাকে সেই রাজনীতিও এখন নেই।

রাজনীতির এই লকডাউনের সময়ও আওয়ামী লীগের মধ্যে অস্থিরতা টানাপোড়েন কমেনি বরং নানা ইস্যুতে আওয়ামী লীগের মধ্যে বিভক্তি কোন্দল এবং অস্বস্তি ক্রমশ বেড়েছে।

লকডাউনের সময় আওয়ামী লীগের মধ্যে চলছে নানা মেরুকরণ। বিশেষ করে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়ুল কাদেরকে নিয়ে একজন মাঠপর্যায়ের নেতা, হোক না সে সাধারণ সম্পাদকের ভাই, যে ভাষায় কথা বলছেন তা আওয়ামী লীগের জন্য বিব্রতকর।

এছাড়াও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একটি বড় অংশ দিবানিদ্রার মতো ঘুমিয়ে আছেন। কোনো বিষয়ে তাদের কোনো কথাবর্তা নেই।

সাম্প্রতিক সময়ে হেফাজতের ইস্যুতে দেখা গেছে রাজনৈতিক অঙ্গনে নয়, প্রশাসনিকভাবে আওয়ামী লীগ সরকার হেফাজতকে মোকাবেলা করেছে।

কিন্তু দলের যে ভূমিকা পালন করা উচিত ছিলো সেই ভূমিকা রাজনৈতিক দলগুলো পালন করতে পারেনি। আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ মনে করছেন আওয়ামী লীগের চেইন অব কমান্ড সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।

আর এ কারণেই সবকিছু নতুন করে ঢেলে সাজানো দরকার। এজন্য আওয়ামী লীগের মধ্যে একটি বড় অংশ তৃণমূল প্রায় সবাই চলতি ডিসেম্বরেই কাউন্সিল করার পক্ষে।

তারা মনে করছেন যে, কাউন্সিল অধিবেশনের নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজাতে হবে এবং সংগঠনকে গোছাতে হবে।

আওয়ামী লীগের কাউন্সিল হয়েছিলো ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে। সেই কাউন্সিলে ওবায়দুল কাদের দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পেয়েছিলেন। 

আওয়ামী লীগ সভাপতি দল এবং সরকারকে আলাদা করার কৌশল হিসেবে যারা মন্ত্রীসভায় ছিলেন তাদের অধিকাংশকেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে বাদ দেন।

শুধুমাত্র ভাগ্যবান কয়েকজন যেমন ড. আব্দুর রাজ্জাক, ওবয়াদুল কাদের, ডা. দীপু মনি, ড. হাসান মাহমুদ কেন্দ্রীয় কমিটি এবং সরকারে জায়গা পান।

অন্যদিকে এনামুল হক শামীম, মহিবুল হাসান চৌধুরীর মতো ছাত্রলীগ থেকে আসা নেতৃবৃন্দ মন্ত্রীত্ব থেকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা পাননি।

এজন্য তাদের শুন্যস্থান পূরণ করতে যারা এসেছেন তারা দলীয় কর্মকাণ্ডে মোটেও মনোযোগী নন এমন কথা উঠেছে আওয়ামী লীগের ভেতর থেকে। বিশেষ করে যাদেরকে প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে নেয়া হয়েছে তাদের অধিকাংশই কোনো কার্যক্রমে থাকেন না। 

আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতারা বলছেন, জাহাঙ্গীর কবির নানক ছাড়া আর কোনো প্রেসিডিয়াম সদস্যকেই রাজনৈতিক বক্তব্য বিবৃতির মধ্যে দেখা যাচ্ছে না।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে মাহবুবুল আলম হানিফ, ড. হাসান মাহমুদ এবং বাহাউদ্দিন নাসিমকে সক্রিয় হতে দেখা যাচ্ছে। ডা. দীপু মনি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাকে খুব বেশি তৎপর দেখা যায় না।

তবে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে সংকটজনক জায়গা তৈরি হয়েছে দলের প্রেসিডিয়াম নিয়ে। প্রেসিডিয়াম হিসেবে যারা আছেন তাদের মধ্যে একজন দু’জন ছাড়া কেউই কোনো রাজনৈতিক ইস্যুতে কথা বলছে না।

এমনকি সাবেক মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নহিদ, আব্দুল মান্নান খানসহ কয়েকজন নেতৃবৃন্দ কোনো রাজনৈতিক ইস্যুতেই থাকছেন না। 

এমনিক আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের তৃণমূলের সঙ্গে যে যোগাযোগ এবং তৃণমূলের সমস্যা সমাধানের যে উদ্যোগ সেখানেও ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

দলের সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে নানমুখী আলোচনা চলছে কেউ কেউ বলছেন তিনি দল পরিচালনায় দ্বিতীয় মেয়াদে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তেমন ভূমিকা রাখতে পারছেন না বরং নিজেই নানারকম বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছেন।

আর এসব কিছুর মধ্যেই আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের কথা উঠেছে। করোনার প্রকোপ চলে গেলেই আওয়ামী লীগের একটি কাউন্সিলের উদ্যোগ দৃশ্যমান হতে পারে।

দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতির সঙ্গেও যোগাযোগ করছেন। তবে সবকিছু নির্ভর করছে করোনার প্রকোপ কখন শেষ হয় তার ওপর।

বাংলা ইনসাইডার

Previous articleমে দিবসের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে উৎপাদন বৃদ্ধিতে নিবেদিত হতে হবে
Next articleকাপ্তাই হ্রদে আজ থেকে তিন মাসের জন্য মাছ আহরণ-বিপনন নিষিদ্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here