“জীবনে সফল হতে চাইলে দু’টি জিনিস প্রয়োজন: জেদ আর আত্মবিশ্বাস” (ডিআইইউর উদ্যোক্তারা)

23

তানজিলা আক্তার লিজা, ডিআইইউ প্রতিনিধি: আমরা যা করতে ভালোবাসি, সেটাই করতে থাকি। সাফল্য নিজেই ধরা দেবে আমাদের কাছে।যারা সফল হয়, তারা সফল হওয়ার আগে থেকেই সফল মানুষের মত আচরণ করে।

এই বিশ্বাসই একদিন সত্যিতে পরিনত হয়। আপনি যদি বিশ্বাস করেন যে আপনি অবশ্যই সফল হবেন, তবে আপনার ব্যবহারেও তা প্রকাশ পাবে এবং আপনি নিজেই নিজের এই দৃষ্টিভঙ্গীর সুফল দেখে অবাক হয়ে যাবেন।

বর্তমানে অনেক তরুণের মনে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন উঁকি দিচ্ছে। এমন কয়েকজন শিক্ষার্থীর সন্ধান মেলে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইংরেজি এবং ফার্মেসি বিভাগে। তাদের সাথে কথা বলে তাদের উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প তুলে ধরেছেন বিডি নিউজ গ্লোবালের এর প্রতিনিধি “তানজিলা আক্তার লিজা”।

ইসরাত জাহান: আসসালামু আলাইকুম। আমি ইসরাত জাহান ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের ৪৪ তম ব্যাচের একজন শিক্ষার্থী। আসলে উদ্দ্যোক্তা হওয়ার গল্পটা অনেক কঠিন।

কিন্তু করোনা কালীন সময়ে অলস সময় কাটাতে কাটাতে যখন আর ভালো লাগছিলো না তখনই আমি আমার উদ্যোক্তা জীবন শুরু করে দেই।আর অনেক আগে থেকেই আমার সপ্ন ছিল উদ্যোক্তা হওয়ার।

করোনার সময় তাই বসে না থেকে আমি সুযোগটা কাজে লাগাই। তখন আম্মুর সহযোগিতায় আমি শুরু করি আমার উদ্যোক্তা জীবন। আলহামদুলিল্লাহ আমি আস্তে আস্তে আমার লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হচ্ছি।

আমার Mimi’s fashion gallery এবং Mimi’s kitchen ghor নমে দুইটি অনলাইন পেজ আছে।সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।আশা করি আগামীতে আমি আপনাদের সকলের দোয়ায় আমার মূল লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো ইনশাআল্লাহ।

রাশেদুল হক মিলন: করোনার মধ্যে মানুষের জীবন-যাপন অনেক অতিষ্ঠ হয়ে গেছে৷ ক্যাম্পাস১১ মাস ধরে বন্ধ কিন্তু আমি ঢাকায় চলে আসি যখন ক্যাম্পাস বন্ধের ৬ মাস হয়েছিলে।

টিউনশনি করতাম তিনটা কিন্তু ঢাকায় আসার পর একটি টিউশনি থাকে বাকি দুটা করোনার কারণে বাদ হয়ে যায়। তাই বন্ধু ফয়সাল আহমেদ মুরাদের সাথে মাঝে মধ্যে আলোচনা করতাম অনলাইন বিজনেস নিয়ে কিন্তু দুজনি সাহস পেতাম না।

কিছুদিন যাওয়ার পর মনিরুজ্জামান অপু ঢাকায় আসলো। তিনজন এক সাথে বলা বলি করতাম। সবাই চিন্তা করলাম কিছু একটা করতে হবে বসে থাকলে চলবে না। তারপর একদিন বিকাল এ হাটতে বের হয়েছি হাটতে গিয়ে হটাৎ মাথায় আসলো যে অনলাইন বিজনেস চালু করবোই।

রাস্তায় হাটতে হাটতে পেজ খুলে ফেললাম। প্রথম অবস্থায় অল্প করে পন্য কিনে আনলাম। আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ রহমতে একটি দুটি করে অর্ডার পাচ্ছি।

সামনে আরো বড় আকারে আমাদের M-cube online shop কে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা। আপনারা সবাই দোয়া করবেন আমরা যেন এই অনলাইন সেবা দিয়ে মানুষের পাশে দাড়াতে পারি।

“আমাদের অনলাইন বিজনেসের মুল্য লক্ষ গুনগত মান সবার সেরা রেখে মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া””।

তানভীর আহমেদ অনিক: শিক্ষাজীবনে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে শিক্ষার্থীদের সময়। কিন্তুু এই সময়ে অনেক শিক্ষার্থী আড্ডা, খেলাধুলা, ইন্টারনেট নিয়ে ব্যস্ত থাকে।

এই কারনে অনেক শিক্ষার্থী কিছুটা পিছে পড়ে যায়।বর্তমান সমাজে একটা কথার প্রচলন আছে সেইটা হলো যারা ভালোভাবে পড়ালেখা করবে শুধু তারাই ভালো জায়গায় যেতে পারবে।অনেক ক্ষেত্রে এই কথাটি ভুল প্রমানিত হয়েছে।

সেক্ষেত্রে আমার দরকার ভালো একজন উদ্যেক্তা হওয়া। একজন ভালো উদ্যােক্তাই পারে জীবনের গতিপথকে উল্টো করে দিতে। ভালো একজন উদ্যােক্তা হওয়ার জন্য প্রয়োজন হচ্ছে জীবনে সৎ থাকা।

আমাদের জীবনের প্রতিটি সময় কাজ করা কিংবা কষ্ট করার দরকার নেই। আমরা জীবনে কিছু করতে হলে আমরা জীবনের কিছু বছরের সময় যেন ভুলে যাই।

কোনো সময় নষ্ট না করে সেই কয়েকটা বছর শুধুমাত্র কাজে লেগে থাকা এবং আমার একটি লক্ষ্য স্থির করা। আমার সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর আগে অনেক বাধাঁ এসেছে তবে থেমে থাকিনি।

আমরা আমাদের জীবনের চার-পাঁচটা বছর এমনভাবে কাজে লাগাবো যেন বাকি সময় আমাদের পিছে ফিরে তাকাতে না হয়।
সবশেষ কথা হচ্ছে,”স্বপ্ন দেখব, লেগে থাকব, সফল হবো ইনশাআল্লাহ”।

ফয়সাল আহমেদ মুরাদ: আসসালামুয়ালাইকুম। আমি ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ফার্মেসি বিভাগের ২১ তম ব্যাচের একজন শিক্ষার্থী। আসলে উদ্দ্যোক্তা হওয়ার গল্পটা অনেক স্বাভাবিক।

করোনা কালীন সময়ে অলস সময় কাটাতে কাটাতে যেন একরকম ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। প্রায় ২ মাস খানিক আগে মাথায় একটাই চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছিল কিছু করা যায় কিনা।

কিন্তু কিছু একটা করা একার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই ব্যাপারটি নিয়ে আমার বন্ধু অপু ও মিলন এর সাথে কথা বলি। ওরা সবাই সারা দিলে সেদিন থেকেই আমরা উদ্দ্যোগ নেয়া শুরু করি এবং আলহামদুলিল্লাহ আমরা লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হই।

আমরা M-Cube Online Shop নামে একটি অনলাইন শপ খুলি। আশা করি আগামীতে আমরা আপনাদের সকলের দোয়ায় আমাদের মূল লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো ইনশাআল্লাহ। আর এ জন্য আপনাদের দোয়া ও সহযোগিতা একান্ত কাম্য।

মনিরুজ্জামান অপু: করোনাকালীন সময় যখন জীবন অতিষ্ঠ হয়ে গেছে তখন খুব চিন্তা করতাম কিছু একটা করলে ভাল হত।।কিন্তু কি করব বাড়িতে থাকলে কিছুই করতে পারব না।

তাই ঢাকায় চলে আসতে চাইলাম কিন্তু আম্মু দিতে চায় না কারন আমি খুব অসুস্থ ছিলাম আবার ক্যাম্পাস অফ ছিল। সব দিকে যখন সমস্যা একটা মাথায় চিন্তা আসল আম্মুকে বলি আম্মু আমি ঢাকায় ডাক্তার দেখাইতে যাব এখানেতো অনেক ডাক্তার দেখাইলাম কিন্তু কিছুতেই বুঝতে পারতেছি না।

তখন আম্মু বললো যা কিন্তু কিছু দিন থেকে চলে আসিস। তার পর ঢাকায় এসে আমি ফয়সাল আহমেদ মুরাদ আর মিলনকে বললাম চল কিছু একটা করি তার পর তারা দুই জন সাড়া দিল।

সবাই আগ্রহ প্রকাশ করা দিয়ে আমরা কিছু পরিমাণ পন্য নিয়ে M-Cube online shop কে এগিয়ে নেওয়া চেষ্টা করতেছি।।সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন আমরা যেন গুনগত মানসম্মত প্রোডাক্ট রেখে মানুষের পাশে দাড়াইতে পারি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here