জনপ্রিয় ৮ টি Deepfake এপ্লিকেশন সম্বন্ধে জেনে নিন

9

Deepfake হচ্ছে এমন ভিডিও প্রস্তুত করা যেখানে নকল হলেও ভিডিও আসল মনে হয়। এই কাজ করা যায় যেসব এপ্লিকেশন দিয়ে, তার কিছু সেরা তালিকা আজ আপনাদের দেখাবো।

Deepfake ভিডিওগুলো এখন বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে এবং জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। একটি Deepfake এপ্লিকেশন, যেটার নাম Zao এবং এটি চাইনিজ Deepfake এপ্লিকেশন, খুব দ্রুত এবং ঝড়ের গতিতে ইন্টারনেট এর ব্যবহারকারীদের নিজের দখলে নিয়ে নিয়েছে। কয়েক সেকেন্ডে এই Deepfake এপ্লিকেশন দিয়ে Deepfake ভিডিও বানানো যায় এবং এটা পুরোপুরি আসল বলেই মনে হয়। যেহেতু Deepfake এপ্লিকেশন অন্যের মুখের সাথে মুখ বদল করে ভিডিও বানানোর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়, সেহেতু অন্য কাউকে ভুলভাবে উপস্থাপন করলে এটা ঝামেলাজনক হতে পারে।


আমরা এমন কিছু Deepfake এপ্লিকেশন খুজে বের করেছি যেগুলো তেমন ক্ষতিকর না এবং গবেষনার কাজে ব্যবহার করা যাবে। আপনি এই Deepfake এপ্লিকেশনগুলো মেশিন চিহ্নিত করার জন্য, ছবি চিহ্নিতকরণ এর জন্য, কম্পিউটার ভিশন এবং আরও অনেক কাজে ব্যবহার করতে পারেন। এখন আর দেরি না করে চলুন সরাসরি এসব Deepfake এপ্লিকেশনগুলোর তালিকাগুলো দেখা যাক :

সেরা Deepfake এপ্লিকেশন এবং ওয়েবসাইট 

১. Zao

Zao হচ্ছে একটি সুন্দর নতুন এপ্লিকেশন যেটা চীনে সম্প্রতি সুন্দর ও নিখুঁত Deepfake ভিডিও বানানোর জন্য বিখ্যাত হয়েছে। কয়েক সেকেন্ডেই এখানে সুন্দর ও নিখুঁত Deepfake ভিডিও বানানো সম্ভব। আপনি চাইলে যেকোনো Chinese drama series, Big bang theory, জনপ্রিয় Hollywood Movies থেকে দৃশ্য বাছাই করে Deepfake ভিডিও বানাতে পারেন। অল্প কয়েক সেকেন্ডেই এখানে এত সুন্দর Deepfake ভিডিও বানানো সম্ভব যা সম্পূর্ণ নিখুঁত এবং আসল ভিডিও থেকে আলাদাও করা যায় না এতটাই আসল লাগে। এই Deepfake এপ্লিকেশন এর বিশেষত্ব হলো এখানে ভিডিও বানাতে কয়েক সেকেন্ড লাগে যেখানে শক্তিশালী কম্পিউটারেও Deepfake ভিডিও বানাতে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় ব্যয় হয়। 

বর্তমান সময়ে, এই Deepfake এপ্লিকেশন শুধু চীনেই রিলিজ হয়েছে। আপনি এটি ডাউনলোড করতে পারবেন তবে ব্যবহার করতে পারবেন না কারণ এখানে লগিন করতে একটি চাইনিজ ফোন নম্বর লাগবে। তবে ভারতে এই এপ্লিকেশন মোটামুটি ভালোভাবেই কাজ করেছে। তবে এখানে ইন্ডিয়ানদের সাথে চেহারাগুলো নিখুঁত লাগে না কারণ হচ্ছে এটি চাইনিজ চেহারার মানুষদের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত করা। আপনি চাইলে এটা ব্যবহার করতে পারেন যখন এটা সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। 

নোট: Zao কোম্পানি আগে বলেছিল যে, তারা তাদের এপ্লিকেশন থেকে বানানো ছবি বা ভিডিও যেকোনো অন্য কাজে ব্যবহার করবে। কিন্তু কঠোর সমালোচনার মুখে পড়ে তারা ওই সিদ্ধান্ত বন্ধ করতে বাধ্য হয়। যদি আপনি প্রাইভেসি নিরাপত্তা নিয়ে বেশি চিন্তিত থাকেন, তাহলে এই এপ্লিকেশন ব্যবহার না করাই আপনার জন্য মঙ্গলজনক।

২. Deefakes web β

এটি একটি Deepfake ওয়েবসাইট যেখানে আপনি Deepfake ভিডিও ওয়েবেই বানানোর সুযোগ পেয়ে থাকেন। এখানে ট্রেনিং করতে আপনাকে ৪ ঘন্টা সময় দিতে হবে এবং ফেস সোয়াইপ করার জন্য আরও ৩০ মিনিট লাগবে এক্সপার্ট ট্রেনিং শেখার জন্য। এখানে যদিও শক্তিশালী GPU ব্যবহার করা হয়, তবুও এখানে সকল তথ্য একত্রিত ও ব্যবহার করতে অনেক সময় লেগে যায়। আপনি যদি Deepfake ভিডিও ব্যবহার করে কম্পিউটার ভিশনের কাজ করতে চান, তাহলে Deepfake web  β ব্যবহার করতে পারেন।

৩. AvengeThem 

AvengeThem যদি আপনি Marvel এর ফ্যান হয়ে থাকেন, তাহলে এই এপ্লিকেশনটি Deepfake ভিডিও বানানোর জন্য সবচেয়ে ভালো হবে। এখানে আপনি চাইলে মারভেল এর কোন চরিত্রের সাথে আপনার চেহারা GIF এর মাধ্যমে বদলে দিতে পারবেন। এটা আসলে কোন নিখুঁত বা সম্পূর্ণ Deepfake এপ্লিকেশন নয়। তবে কিছু সময়ে এটা নিখুতভাবে কাজ করে থাকে। এখানে ১৮ ধরনের GIF রয়েছে যার মধ্যে Iron man, Star lord, Black widow, Captain america এবং আরো অনেক চরিত্র রয়েছে। আপনি চাইলে এখান থেকে যেকোনো GIF সিলেক্ট করে নিজের চেহারা বসাতে পারেন এবং নিজেই সুপার হিরো হয়ে নিজের বন্ধুদের সাথে এই ছবি শেয়ার করতে পারেন। আমি নিজে এই এপ্লিকেশন ব্যবহার করেছি, এটা বেশ ভালো কাজ করে, এবং আশা করি আপনিও ভালো অভিজ্ঞতা পাবেন।

৪. Doublicat

Doublicat অন্যান্য Deepfake এপ্লিকেশন এর মত নয়। এটি একটি মজাদার Deepfake এপ্লিকেশন যেখানে আপনি বিভিন্ন GIF বা Meme চরিত্রের সাথে নিজের চেহারা বদলাতে পারেন। এখানে শুধু আপনাকে নিজের ছবি তুলতে হবে এবং আপনার পছন্দের চরিত্র বা GIF সিলেক্ট করতে হবে। কয়েক সেকেন্ডেই এই এপ্লিকেশন আপনার ছবির সাথে সিলেক্ট করা ছবি পালটে দেবে। এই এপ্লিকেশন আসলে সঠিকভাবে কাজ করেনা এবং আপনার ছবি ও আপনার সিলেক্টকৃত ছবি প্রায় একরকম না হলে এটা ভালোভাবে কাজও করবে না। তবে আপনার কাছে পরীক্ষা করার জন্য অনেক অপশন রয়েছে। আপনি এটা ব্যবহার করতে পারেন নিজের ব্যক্তিগত GIF creator হিসাবে এবং বন্ধুদের সাথে মজা করতে পারেন। 

৫. MachineTube

এটি এমন একটি ওয়েবসাইট যেখানে আপনি আপনার কম্পিউটারে Deepfake ভিডিও বানাতে পারবেন। এখানে ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবহার করা সম্ভব হয়না। এখানে আপনার খুবই শক্তিশালী পিসি এবং ২ জিবি VRAM এর দরকার হয়। এখানে Deepfake ভিডিও পেতে হলে আপনাকে কমপক্ষে ঘন্টা খানেক সময় ব্যয় করতে হবে। এখানে আপনাকে ভিডিও, ছবি আপলোড করতে হবে এবং তারপর ধীরে ধীরে আপনি এখানে কাজ করতে পারবেন। এখানে খুবই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার হয় এবং এলগরিদম লাগে ছবির তথ্যাবলি প্রসেস করার জন্য। তবে এটা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহারযোগ্য এবং যদি আপনি গবেষনার কাজে এটা ব্যবহার করতে চান অথবা মজাও করতে চান, তাহলে MachineTube অবশ্যই ব্যবহার করতে পারেন।

৬. DeepFaceLab

DeepFaceLab মূলত একটি উইন্ডোজ প্রোগ্রাম যেটা আপনাকে Deepfake ভিডিও বানানোর সুযোগ প্রদান করে। এই সুবিধা মূলত গবেষনাকারী ও কম্পিউটার ভিশনের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য উপযোগী। এখানে মেশিন লার্নিং এবং মানুষের ছবির Synthesis ব্যবহার করা হয়। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখানে Deepfake ভিডিও বানানো হয়। যেহেতু এটি গবেষনাকারীদের জন্য বানানো, তাই এটি User friendly নয় এবং এটার ব্যবহার আলাদাভাবে শিখতে হয়। তাই যদি গবেষনাকারী বা কম্পিউটার স্টুডেন্ট না হন, তাহলে এই এপ্লিকেশন ব্যবহার আপনার জন্য উপযোগী না।

৭. DeepArt

এই এপ্লিকেশনটি খুব সম্প্রতি বিখ্যাত হয়েছে। DeepArt মূলত কোন Deepfake এপ্লিকেশন নয়, এখানে শুধুমাত্র Deepfake ইমেজ বানাতে পারে তাও পুরনো গঠন বা ছবি দেখে। এর একটি এক্সক্লুসিভ সুবিধা হলো এখানে AI ব্যবহার করে যেকোনো ছবিকে Artwork এ রুপান্তর করা যায়। এখানে উচ্চ মাত্রার এলগরিদম ও মানুষের মস্তিষ্ক এর থেকে অনুপ্রানীত হয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে। স্টাইলিশ প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখানে সুন্দর Artwork বানানো হয়। আর এখানে Privacy নিয়ে কোন সমস্যা হয়না। যদি আপনি একটু আজব টাইপের Deepfake এপ্লিকেশন ব্যবহার করে দেখতে চান, তাহলে এটাই সেরা বলে বিবেচিত হবে।

৮. Face Swap Live

Face swap আসলে সম্পূর্ণরুপে কোন Deepfake এপ্লিকেশন নয়, তবে এখানে আপনি ছবি বা ভিডিওর ছবি আপনার কোন বন্ধুর সাথে বদলাতে পারবেন। এখানে ভিডিও প্রস্তুত, ছবি যুক্ত করা এবং সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার সুবিধা রয়েছে। তবে এটা অন্য এপ্লিকেশন গুলোর মতো নয়, বরং এখানে স্থিরচিত্র ব্যবহার হয়না বরং কিছুটা নড়চড় হয়ে যায়। এখানে 3D ইফেক্ট, ফেস র‍্যাপিং, এবং বেশ কিছু মাস্ক ও ইফেক্ট পাওয়া যায় যা বেশ মজাদার। এটা বেশ কিছু দিক থেকেই Zao এর বিকল্প হিসাবে কাজে লাগানো যেতে পারে। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here