কোনটির সমাধান আগে, করোনা নাকি বন্যা !

18
D H Rony
D H Rony

কোনটির সমাধান আগে, করোনা নাকি বন্যা : ডি এইচ রনি

করোনাস্পর্শে দেশ আজ ঘুমন্ত। গার্মেন্টস, শিল্প কারখানা, মিল ফ্যাক্টরী, বিভিন্ন বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সহ প্রায় সবধরনের প্রতিষ্ঠানই বন্ধ। নেই দেশের মানুষের তেমন কোন কাজকর্ম। ঘরে বসে দিনের পর দিন কাটাতে হচ্ছে বেকার। কারো কারো আবার ফুরিয়ে আসছে জীবিকানির্বাহের মূলধন। কি করবে, কোথায় যাবে, তা ভেবে কিংকর্তব্যবিমূঢ়। ঠিক এসময়েই দেশে দেখা দিল জলরাশির কান্নার ধারা। সারাদেশের ২৫টিরও বেশি জেলা প্লাবিত হলো বন্যায়। ফসলের জমি, মাছ ভর্তি পুকুর, বসত বাড়ির আঙিনায় উপছে পড়া পানি। ভাবা যায় কেমন আছে দেশের মানুষ!

করোনার এই দুর্দিনে কৃষি নির্ভর রাষ্ট্রে কৃষিজ পণ্যই যেখানে দেশের আর্থিক ক্ষতিপূরণে একটুখানি আশার আলো জাগিয়েছিল সেটাও বন্যায় ভেসে গেল। অনেকে সারাবছর মাছ চাষের মাধ্যমে পারিবারিক আর্থিক চাহিদা মেটায় সেই মাছ চাষকৃত পুকুরগুলোও ডুবে একাকার। তার চেয়ে বড় কথা হল বন্যার দূষিত পানি মানুষের জীবন যাত্রাকে খুবই বাজে ভাবে বিপন্ন করে তুলেছে। বন্যায় সংক্রামক রোগ-ব্যাধির বিস্তার বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রাপ্ত বয়স্কদের চেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে অল্প বয়সের শিশুরা। বন্যায় প্লাবিত প্রতিটি অঞ্চলেই দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব যার কারনে পরিলক্ষিত হচ্ছে নানা ধরনের সমস্যা। ডায়রিয়া, কলেরা, রক্ত আমাশয়, টাইফয়েড, ভাইরাল হেপাটাইটিস, পেটের পীড়া, কৃমির সংক্রমণ, চর্মরোগ, চোখের অসুখ প্রভৃতি সমস্যাও ছড়িয়ে পড়ার আশংকা রয়েছে বহুলভাবে। দেশের কোনো কোনো স্থানে সাপের কামড়ে প্রাণনাশের মত খবরও পাওয়া গেছে এই বন্যায়৷

একদিকে করোনার আক্রমন অন্যদিকে বন্যার তান্ডব কোনদিকটা আগে সামলাবে দেশ? বাংলাদেশ সরকারের ঘোষণা, করোনা থেকে বাঁচতে নিরাপদ দুরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরে অবস্থান করা কিন্তু বন্যাদুর্গত মানুষের পক্ষে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে বসবাস করা অত্যন্ত কঠিন। ঘরবাড়ি প্লাবিত হলে অনেক মানুষকে একসঙ্গে আশ্রয় নিতে হয় উঁচু সড়ক, বাঁধ, স্কুলঘর ইত্যাদি জায়গায়; দিনরাত কাটাতে হয় গাদাগাদি করে। পানির কবলে পড়া পরিবার গুলোর যেখানে নূন্যতম খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকাই দুস্কর সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা কতটুকুই বা সম্ভব।

দিন যাচ্ছে বন্যার পানি বাড়ছে সেই সাথে পাল্লা দিতে গিয়ে পিছিয়ে নেই দেশে আক্রমণ করা প্রানঘাতী ভাইরাস করোনা। মৃত্যুর মিছিল যেন ক্রমশ ভারী থেকেও ভারী হচ্ছে। কোথায় এর শেষ? বন্যা নাকি করোনা? কোন সমস্যার সমাধান আগে পাবে বাঙালী। নাকি কোনোটার সমাধান না পেয়ে করোনার আক্রমন আর বন্যার পানিতে মৃত্য মুখে পতিত হবে সবাই?

প্রশ্নগুলোর সুস্পষ্ট উত্তর পাওয়া হয়ত কষ্টসাধ্য। তবে বন্যা সমস্যা যেহেতু দীর্ঘমেয়াদী নয় সেক্ষেত্রে করোনার পাশাপাশি সর্বপ্রথম বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও মোকাবিলকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। দেশের বন্যা কবলিত এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানকার স্থানীয় প্রতিনিধিদের সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা প্রনয়ন করা উচিৎ। তারপর তাদের আশ্রয়কেন্দ্র ও সাস্থ্যসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।

আমাদের দেশে সকল কিছুর অপূর্ণতা নেই কিন্তু অপূর্ণতা রয়েছে কিছু ক্ষেত্রে সঠিক পরিচালনার যার ফলশ্রুতিতে ভোগান্তি সৃষ্টি হয় সমাজে। বন্যার এই করুন পরিস্থিতি হুট করে ঠেকানো সম্ভব নয় বটে, তবে বন্যাদুর্গত মানুষদের এই দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা করার কোনো উপায় নেই—এটা মনে করারও কোনো সুযোগ নেই। মানুষকে বন্যা ও করোনা থেকে বাঁচাতে হবে, সে জন্য অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশেও তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কার্যকর পন্থাগুলো খুঁজে বের করতে হবে। বন্যায় করোনা ঝুঁকি কমাতে সরকার কতৃক নিতে হবে কার্যকর পদক্ষেপ সেই সাথে সমাজের বিত্তশালী ব্যক্তিবর্গ সহ সকল শ্রেণীর মানুষের সম্মিলিত সাহায্য সহযোগিতায় কেবল নিয়ন্ত্রণ করতে পারে দেশের চলমান করোনা ও বন্যা সমস্যা ।

লেখকঃ দেলোয়ার হোসেন রনি
শিক্ষার্থীঃ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ত্রিশাল, ময়মনসিংহ-২২২৪.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here