এ যেনো এক মায়াবী বাঁধন

86

নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তি সব মিলিয়ে অনুষ্ঠানটি ছিলো এক প্রানবন্ত অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানের শেষ প্রান্তে দেয়ালের ওপার থেকে এক সুমধুর কন্ঠ ভেসে আসে।

নয়ন: দ্রুত চলে যাই। অনুষ্ঠানের প্রধান ফটক থেকে বের হয়ে যত দ্রুত সম্ভব হয় চলে আসি সুমধুর কন্ঠশীল সেই নারীকে দেখতে।
একি হলো, দেয়ালের এপারে তো কেও নেই। মনে যে এক আনন্দের বাদল হয়েছিল। শূন্যস্থান দেখার পর বজ্রপাতের বন্যা হচ্ছে।
চেহারায় এক বিষন্নতার ভাব নিয়ে দেয়ালের এপার হতে হাটাঁ শুরু করলাম।
হটাৎ,”পায়ে এক শক্ত কী যেনো আটকে গেলো।”
তুলে দেখতে পেলাম এতো, “ঝুমকা”।
     মুখে এক মুচকি হাসি দিয়ে বলতে লাগলাম।
নয়ন: সুমধুর কন্ঠশীল নারীর জন্য এসে এ কোন অচেনা নারীর ঝুমকা মিলিয়ে দিলো।
হে সৃষ্টিকর্তা, কোন মায়াবী বাঁধনে পরতে চলেছি আমি।
ঝুমকা টা শার্টের পকেটে রেখে হেঁটে যেতে যেতে ভাবলাম টঙ্গে বসে এক কাপ চা নিলে মন্দ হয় না।

যেমন কথা তেমন কাজ চলে আসলাম টঙ্গে।

নয়ন: এ মামা; রং চা করে দেও তো এক কাপ
ফুল বিক্রেতা: ভাইয়া, একটি ফুল নেও না, টকটকে লাল গোলাপ ফুল নিয়ে তোমার বিবিকে দিবা আর মনের কথা বলবা।

সে অনেক খুশি হবে ভাইয়া।
নয়ন: এই ফুল বিক্রেতা আমার বিবি নাইরে, বিয়েই তো করিনি

ফুল বিক্রেতা: তাহলে তোমার মনের মানুষের জন্য নেও, খুশি হবে সে।
নয়ন: না বুঝেই, এক হাসি দিয়ে কিনে নিলাম।
শার্টের পকেটে ঝুমকা হাতে এক টকটকে লাল গোলাপ নিয়ে আবার হাটাঁ শুরু করলাম।
বেঁদে মেয়ে : এই বাবু দাঁড়াতো, লাল একডজন রেশমি চুড়ি নিয়ে নে তোর বিবি আরো খুশি হবেরে বাবু।
নয়ন : ওরে বেঁদে মেয়ে শুনো তো বিয়ে তো করিনি।
বেঁদে মেয়ে : ওহ বুঝছি, তোর সখীর জন্য টকটকে গোলাপ কিনেছিস। শুন সাথে লাল রেশমি চুড়ি নিয়ে নে। তোর সখী অনেক খুশি হবে।
নয়ন : আবার ও, না বুঝেই এক হাসি দিয়ে কিনে নিলাম।

এক ডজন লাল রেশমি চুড়ি, টকটকে লাল গোলাপ হাতে হেঁটে যাচ্ছি। আর ভেবেই চলেছি, কার উদ্দেশ্য কেনা জানিনা।
কিন্তু মন কেনো এতো বলছিলো, কিনে নে। বাড়ির উদ্দেশ্য বাসের জন্য দাড়িয়ে আছি।
বাসে উঠে বসে পড়লাম। কিছুক্ষণ পর পরের বাস স্ট্যান্ড থেকে এক মায়াবী নারী বাসে উঠে আমার পাশের সিটে বসল।
তখনই আবার শুরু হতে লাগল হৃদসপন্দ।
লজ্জায় তাকাতে ও পারছিনা সেই মায়াবী নারীর দিকে আর কথা বলতে পারছি না।
হঠাৎ, এক পরিচিত কন্ঠে বলে উঠল,
আচ্ছা,এ গাড়ি কতদূর যাবে।
নয়ন: এই সেই সুমধুর কন্ঠশীল নারী
হ্যাঁ,সেই এক কন্ঠ
এই গাড়ি যাত্রা বাড়ি পযর্ন্ত যাবে।
আমি ইস্মিতা।এসেছিলাম এক অনুষ্ঠানে এখানে, আপনি?
নয়ন: কিছু বলবো, তখনই চোখ পড়ে তার বাম কানের ঝুমকো নাই , ডান কানের ঝুমকো সেই কুড়িয়ে পাওয়া আমার শার্টের পকেটে রাখা এই ঝুমকো।
বাসের জানালা দিয়ে আকাশের পানে তাকিয়ে অফুরন্ত মুচকি হাসি হেসেই যাচ্ছি।

তানজিলা আক্তার লিজা, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ফার্মেসি বিভাগ সংবাদকর্মী

Previous articleদিনাজপুরে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল সহ আটক ১
Next articleঅবশেষে বশেমুরবিপ্রবি’ ক্যাম্পাসে জাতির পিতার ম্যুরাল কমপ্লেক্স নির্মানের অনুমোদন পেল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here